বন্ধ হচ্ছে সামিটের তিন বিদ্যুৎ কেন্দ্র

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তালিকাভুক্ত কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেডের গ্যাসভিত্তিক তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি)।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তালিকাভুক্ত কোম্পানি সামিট পাওয়ার লিমিটেডের গ্যাসভিত্তিক তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি)। কেন্দ্র তিনটি হলো রূপগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র (৩৩ মেগাওয়াট), মাওনা বিদ্যুৎ কেন্দ্র (৩৩ মেগাওয়াট) ও উল্লাপাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র (১১ মেগাওয়াট)। আগামী ১ এপ্রিল এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, রূপগঞ্জ, মাওনা ও উল্লাপাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে যথাক্রমে গত বছরের ৮ জুন, ১১ মে ও ২ মার্চ। প্রাথমিক ১৫ বছরের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মূল্য পরিশোধ ও চুক্তি নবায়নের শর্তে এ বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিআরইবির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রগুলো সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে ১১ মার্চ আরেকটি চিঠির মাধ্যমে বিআরইবি জানিয়েছে, আগামী ১ এপ্রিল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। নতুন করে চুক্তি নবায়নের কোনো সুযোগ নেই।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) সামিট পাওয়ারের ২৪৮ কোটি টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩০৬ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ১৯ শতাংশ।

চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে সামিট পাওয়ারের আয় হয়েছে ২ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ হাজার ২১০ কোটি টাকা। এ সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৭১ পয়সা।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে সামিট পাওয়ারের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ১৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৪৪ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সামিট পাওয়ার। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৮৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ২ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করে সামিট পাওয়ারের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৮৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ২৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৭২ পয়সায়।

সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ২৫ পয়সা।

২০০৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সামিট পাওয়ারের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ১০৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১০৬ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ২৩৯। এর মধ্যে ৬৩ দশমিক ১৯ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৮ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

আরও